০৩ জুন ২০২৬
জোরপূর্বক শ্রম বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের ওপর অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি বড় ধরনের প্রস্তাব করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দফতর (ইউএসটিআর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রস্তাবটি ঘোষণা করেছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারা ব্যবহার করে ইউএসটিআর এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য দফতরের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোর এই ধরনের ব্যর্থতা মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজার এবং শ্রমিকদের জন্য একটি চরম অসম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে। এই শুল্ক প্রস্তাবে জবরদস্তিমূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানিতে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কিংবা তা মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের মোট ৫৪টি অর্থনীতিকে সরাসরি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো ও পাকিস্তানসহ আরও ছয়টি দেশকে তাদের দেশে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার জন্য এই তালিকায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউএসটিআর-এর প্রস্তাবিত নতুন এই অর্থনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী, যেসব দেশের সাথে বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আংশিক বা বিশেষ কোনো বাণিজ্য ব্যবস্থা চালু রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে, যেসব দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের কোনো বিশেষ বাণিজ্যিক চুক্তি বা ব্যবস্থা নেই, তাদের পণ্য মার্কিন বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাড়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক গুনতে হতে পারে।
তবে মার্কিন প্রশাসনের এই বড় পদক্ষেপটি এখনই চূড়ান্তভাবে কার্যকর হচ্ছে না, বরং এটি বর্তমানে দেশটির নীতিগত পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এর বাইরে মার্কিন বাজারে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য আমদানির জন্য একটি সম্পূর্ণ আলাদা কোটা ব্যবস্থারও প্রস্তাব করা হয়েছে নতুন এই নীতিমালায়। যার মাধ্যমে বিশ্ববাজারের নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক পণ্য কিছুটা কম শুল্কের সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে; যদিও এই বিশেষ কোটার বিস্তারিত এবং চূড়ান্ত নিয়মাবলি এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানা গেছে।





Total views : 7300