০৭ জুন ২০২৬
তৃণমূল তথা প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আমূল বদলে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে এখন থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার মেগা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ৩ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বিশেষ দিক-নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
প্রকাশিত অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ নির্দেশনার আলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যাসংখ্যা ১০১-এ উন্নীতকরণের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যাসংখ্যা বেশ সীমিত (সাধারণত ৩১ বা ৫০ শয্যা)। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার গ্রামীণ সাধারণ মানুষ ও রোগী হাসপাতালে এসে ভর্তি হতে না পেরে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে চরম ভোগান্তির শিকার হন।
শয্যাসংখ্যা একলাফে ১০১-এ বাড়লে গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের অধিকসংখ্যক জটিল রোগী নিজ উপজেলাতেই ভর্তি হয়ে উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রতিটি উপজেলায় শয্যা বাড়ার ফলে চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল বা বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীদের উপচে পড়া চাপ ও রেফার করার প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে।
শয্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে হাসপাতালের আধুনিক অবকাঠামো ও রোগীদের জন্য অধিকতর সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের (UH&FPO) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা মাঠপর্যায়ে আসা কেন্দ্রীয় পরিদর্শন দলের (Inspection Team) সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
পরিদর্শন কার্যক্রম যাতে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, পূর্বের নথিপত্র এবং স্থানীয় পর্যায়ের সব লজিস্টিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা শতভাগ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে এই বিশেষ অফিস আদেশের অনুলিপি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল জেলা ও বিভাগীয় দপ্তর-সংস্থায় পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সুবিধার্থে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মূল ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ই-মেইলের মাধ্যমেও পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।





Total views : 7308