০৭ জুন ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ও যুদ্ধ শুরুর আজ রবিবার (৭ জুন) ১০০ দিন পূর্ণ হলো। তবে শততম দিনে এসেও এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত মার্কিন জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয় এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি চরম রাজনৈতিক দায় বা ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে না—এমনটাই মনে করছেন দেশটির সিংহভাগ নাগরিক।
যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই মার্কিন ভোটারদের বড় অংশ ইরানে বোমা হামলার তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। শতদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও সেই জনমতের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক শিবলি তেলহামি পরিচালিত এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এক বিস্ময়কর চিত্র:
মার্কিন ভোটার মনে করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জিতেছে বা জয়ের পথে রয়েছে। অথচ হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্রমাগত বিজয়ের দাবি করে আসছেন।দেশটির অধিকাংশ সাধারণ ভোটার মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থে ইতিবাচক কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, বরং এর নেতিবাচক প্রভাবই বেশি। উত্তরদাতা মনে করেন যুদ্ধের প্রভাব কিছুটা ইতিবাচক।
অধ্যাপক শিবলি তেলহামি এই ফলাফলকে ‘বিস্ময়কর’ আখ্যা দিয়ে আল জাজিরাকে বলেন, “খোদ ট্রাম্পের নিজস্ব দল রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ যখন মনে করছে এই যুদ্ধ দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি বড় ধরণের মোড় নিয়েছে। এটি নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সামনে বড় বিপদ ডেকে আনবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরে ইরান যুদ্ধের প্রতি এই তীব্র জনসমর্থনের অভাব ট্রাম্প প্রশাসনকে মারাত্মকভাবে দুর্বল করে দিচ্ছে। বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা। তারা আশা করছে, যুদ্ধের এই নেতিবাচক প্রভাবের কারণে তারা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে। আর তেমনটি হলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের সমস্ত নীতি ও কর্মসূচি বড় ধরণের রাজনৈতিক বাধার মুখে পড়বে।
শততম দিনে একদিকে যখন ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে উত্তেজনা কমেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) আজ দাবি করেছে যে, তারা আকাশসীমায় ইরানের আরও দুটি সামরিক ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তবে মাঠ পর্যায়ের এই সামরিক সাফল্যও মার্কিন নাগরিকদের যুদ্ধের নেতিবাচক অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষতি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করতে পারছে না।





Total views : 7308