ট্রিবিউন ডেস্ক | ১৯ মে ২০২৬
বর্তমান সময়ে মোবাইল, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের সহজলভ্যতার কারণে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ইন্টারনেট অত্যন্ত সহজলভ্য। নেট দুনিয়ার বিশাল তথ্যভাণ্ডার যেমন শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে, তেমনি এর আড়ালে থাকা সাইবার জগতের কিছু বিপজ্জনক কনটেন্ট বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের প্রাণবন্ত শৈশব ও মানসিক বিকাশকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে। বিশ্বজুড়ে ‘চাইল্ড পর্নোগ্রাফি’ বা শিশু পর্নোগ্রাফি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও অনেক শিশু-কিশোর কৌতূহলবশত বা বন্ধুদের প্ররোচনায় এতে প্রবেশ করছে। মনোবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানরা অনেক সময় এই মরণনেশায় আসক্ত হয়ে পড়লেও অভিভাবকরা তা সময়মতো টের পান না। তবে সন্তানের কিছু সুনির্দিষ্ট আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সহজেই এই আসক্তি চিহ্নিত করা সম্ভব।
সন্তানের মধ্যে যেসব আচরণগত পরিবর্তন দেখলে সতর্ক হবেন:
- আচরণে হঠাৎ আড়াল করার প্রবণতা: সবসময় হই-হুল্লোড় করে বেড়ানো প্রাণবন্ত সন্তানটি যদি হঠাৎ করেই চুপচাপ, খিটখিটে বা অতিরিক্ত অন্তর্মুখী হয়ে যায় এবং আপন মানুষদের সামনে এক ধরণের আড়াল করার বা লুকিয়ে রাখার ভাবভঙ্গি দেখায়।
- ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত গোপনীয়তা: দিন-রাত সবসময় ফোন বা কম্পিউটারে মগ্ন থাকা এবং নিজের ডিভাইসটি সবসময় কড়া পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে রাখা। বিশেষ করে বাবা-মা বা পরিবারের কেউ ফোনটি স্পর্শ করলেই মারাত্মক অস্বস্তিতে পড়া।
- গভীর রাত পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহার: পড়াশোনা বা অ্যাসাইনমেন্টের অজুহাতে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে একা একা ফোন বা ল্যাপটপ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা।
- চটজলদি স্ক্রিন বা ট্যাব পরিবর্তন: ঘরের ভেতর হঠাৎ বাবা-মা বা অন্য কেউ ঢুকতে দেখলেই তাড়াহুড়ো করে ল্যাপটপ বন্ধ করে দেওয়া কিংবা কম্পিউটারে দ্রুত অন্য কোনো সাধারণ পেজ বা ট্যাব খুলে বসার চাতুরী।
- অস্বাভাবিক নির্জনতা ও মেজাজ হারানো: বন্ধুদের সাথে হঠাৎ করে ফিসফিস করে আলোচনা করা, দল বেঁধে একান্তে সময় কাটানো কিংবা সামান্য বিষয়েই অতিরিক্ত মেজাজ হারানো এবং বয়ঃসন্ধিকালীন চরম অবাধ্য মনোভাব তৈরি হওয়া।
প্রযুক্তি ও শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় শুধু সন্তানের ডিভাইসে কড়া নজরদারি রাখাই যথেষ্ট নয়। যদি সন্তানের মধ্যে উপরোক্ত লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, তবে সবার আগে বাবা-মাকে সন্তানের সাথে দূরত্ব কমিয়ে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে সন্তানের ওপর চিৎকার করা, রেগে যাওয়া বা মারধর করা উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। এর পরিবর্তে সন্তানের সাথে সরাসরি ও সংবেদনশীল উপায়ে কথা বলা উচিত। প্রাথমিক প্রতিবিধান হিসেবে ডিভাইস ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া এবং ঘরের উন্মুক্ত বা সাধারণ স্থানে (যেমন ড্রয়িং রুম) কম্পিউটার ব্যবহারের নিয়ম চালু করা যেতে পারে। তবে আসক্তি যদি খুব গুরুতর রূপ নেয়, তবে লোকলজ্জা ভুলে অবিলম্বে অভিজ্ঞ কাউন্সিলর বা পেশাদার শিশু মনোবিজ্ঞানীর শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।






Total views : 7289