০৬ জুন ২০২৬
ঈদুল আজহায় মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রকস্টার’ সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা তীব্র ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নেতিবাচক প্রচারণার জবাবে এবার সরাসরি মুখ খুলেছেন ঢালিউড কিং শাকিব খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, মুক্তির প্রথম দিন থেকেই একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল সিনেমাটির ভালো দিকগুলো সম্পূর্ণ আড়াল করে সুপরিকল্পিতভাবে কেবল নেতিবাচক রিভিউ কেটে কেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে। চক্রান্তকারীদের সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাকিব প্রশ্ন ছুড়েছেন, “এই আক্ষেপ ও চক্রান্তটা কার প্রতি? আমার প্রতি, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সানমোশন পিকচার্সের প্রতি, পরিচালক রুশোর প্রতি নাকি সামগ্রিকভাবে বাংলা সিনেমার প্রতি?”
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মুক্তির প্রথম সপ্তাহ শেষে রাজধানীর উত্তরা সেন্টারে অবস্থিত ‘স্টার সিনেপ্লেক্সে’ প্রথমবারের মতো সিনেমার প্রচারণায় এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কড়া মন্তব্য করেন।
সিনেমা নিয়ে বক্স অফিস পলিটিক্স ও চক্রান্তের তীব্র সমালোচনা করে শাকিব খান বলেন, “একটা সিনেমায় পজিটিভ-নেগেটিভ দুই ধরনের রিভিউই হতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই কেটে কেটে শুধু নেগেটিভ রিভিউ প্রচার করা হলো— এ ব্যাপারটা আমি বুঝলাম না। এমনকি বগুড়ার এক নামি প্রেক্ষাগৃহের মালিকের আক্ষেপমাখা মন্তব্যকেও ভিন্নভাবে টুইস্ট (বিকৃত) করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। এই আক্ষেপটা আসলে কার প্রতি?”
তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল চায় না বাংলা সিনেমার উন্নতি হোক। নতুন ধারার গল্প নিয়ে সিনেমা যখনই এগিয়ে যেতে চায়, তখনই তারা টেনে পেছনে নামানোর চেষ্টা করে। তারা চায় দর্শক সবসময় চেনা ছকের মর্টারগান বা মেশিন গানের মারামারিতেই আটকে থাকুক, এর বাইরে নতুন কিছু যেন না পায়।
দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির চূড়ায় থাকা এই মেগাস্টার এই ধরনের নোংরা বক্স অফিস পলিটিকসকে তাঁর ক্যারিয়ারের অংশ হিসেবেই দেখছেন। নিজের দীর্ঘ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন:
“পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে যেমন কঠিন লড়াই করতে হয়, সেখানে বছরের পর বছর টিকে থাকতে গেলেও সমপরিমাণ স্ট্রাগল করতে হয়। সাময়িকভাবে কিছু ইউটিউবার ভিউ পাওয়ার আশায় নেতিবাচক কনটেন্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিল। তবে মুক্তির দ্বিতীয় দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে যেভাবে দর্শক ফিরেছে, তাতেই প্রমাণ হয়েছে যে— দিন শেষে সত্যেরই জয় হয়।”
শাকিব খান জানান, চক্রান্তকারীরা প্রথম দিন সাময়িক বিভ্রান্তি ছড়ালেও ‘রকস্টার’ সিনেমাটির আধুনিক নির্মাণশৈলী, রুশোর পরিচালনা এবং সানমোশন পিকচার্সের চমৎকার প্রযোজনা দর্শক সানন্দেই গ্রহণ করেছে। স্টার সিনেপ্লেক্সসহ দেশের বড় বড় মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলোতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়ই প্রমাণ করে যে দর্শক এখন চেনা ফর্মুলার বাইরে আন্তর্জাতিক মানের বাংলা সিনেমা দেখতে প্রস্তুত। নেতিবাচক প্রচারণায় কান না দিয়ে বাংলা সিনেমার পাশে থাকার জন্য তিনি সাধারণ দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।






Total views : 7289