০৬ জুন ২০২৬
ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি গাছের ডালপালা ও গোড়ার অংশ কেটে ফেলার পর সেটি অলৌকিকভাবে আবার সটান দাঁড়িয়ে গেছে! এমন এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। অলৌকিক ও ‘আল্লাহর কুদরত’ দাবি করে দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ গাছটি দেখতে ছুটে আসছেন। অনেকেই রোগবালাই থেকে মুক্তির আশায় গাছের গোড়ায় মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালাচ্ছেন, মানত করছেন, এমনকি গাছের শিকড়-বাকল ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামে গত কয়েকদিন ধরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম হুলুস্থুল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে বচিয়ারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ডালপালাহীন ও ন্যাড়া গাছটির নিচের একটি অংশ প্রায় কাটা থাকলেও সেটি অলৌকিকভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। গাছটিতে ইতোমধ্যে লাল কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং এর চারপাশ জুড়ে সীমানা নিশানা টেনে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাটিকে সরাসরি সৃষ্টিকর্তার বিশেষ ইশারা বা অলৌকিক ঘটনা বলে মনে করছেন এবং পরম যত্নে গাছটিকে পাহারা দিয়ে রাখছেন।
উক্ত বাড়ির বাসিন্দা শারমীন সুলতানা সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি নিজের চোখে গাছটি পড়তে এবং আবার দাঁড়াতে দেখেছেন। তিনি বলেন, “মাস দেড়েক আগে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ে যায়। গাছটি কাটার জন্য লোক লাগানো হয়। শ্রমিকরা যখন ডালপালা কেটে টুকরো টুকরো করে, তখন হঠাৎ অলৌকিকভাবে গাছটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। দেখা মাত্রই আমি ভয়ে চিৎকার করি, পরে আশপাশের লোকজন এসে ভিড় জমায়।”
গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী এবং পরিবারের প্রবীণ সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, “তুফানে গাছটি পড়ে যাওয়ার পর আমরা কাঠ ব্যবসায়ীর কাছে এটি বিক্রি করে দিয়েছিলাম। ডালপালা কাটার পর এটি যেভাবে দাঁড়িয়ে গেছে, তা সরাসরি আল্লাহর কুদরত ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন প্রতিদিন শত শত লোক এখানে এসে মানত করছে, মোমবাতি জ্বালাচ্ছে। অনেকে শিকড় নিয়ে যাচ্ছে রোগ ভালো হওয়ার ধারণায়।”
সাধারণ মানুষ যখন এটিকে অলৌকিক বা জিনের কারসাজি বলে ভাবছেন, তখন ঘটনার পেছনের আসল রহস্য বা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা উন্মোচন করেছেন গাছটি কাটতে আসা পেশাদার কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া।
আমিন মিয়ার দাবি, এর পেছনে কোনো জিন-ভূত বা অলৌকিক বিষয় নেই। তিনি জানান:
“গাছটি যখন ঝড়ে উপড়ে পড়েছিল, তখন এর শিকড়ের বড় একটি অংশ মাটির নিচে আটকে ছিল এবং শিকড়ে প্রচণ্ড টান বা স্থিতিস্তাপক চাপ (tension) তৈরি হয়েছিল। আমরা যখন গাছের ভারী ডালপালা এবং কাণ্ড কেটে টুকরো করে হালকা করে ফেলি, তখন মাটির নিচের শিকড়ের ওজনের ভারসাম্য এবং টানের টাল সামলাতে না পেরে গাছটি স্প্রিংয়ের মতো আচমকা আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। এই গাছের গোড়ার বাকি থাকা আর মাত্র কয়েক ইঞ্চি জায়গা কেটে দিলেই এটি আবার মাটিতে পড়ে যাবে। এটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞানের নিয়ম, কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়।”
কাঠুরিয়ার এই যৌক্তিক ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, সাধারণ উৎসুক জনতার ভিড় এবং অন্ধবিশ্বাস কোনোভাবেই কমছে না। বচিয়ারা গ্রামের ওই গাছকে ঘিরে এখনও মানুষের অন্ধভক্তি ও ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় সচেতন মহল।






Total views : 7289