অনলাইন ডেস্ক | অগ্ৰণী সংবাদ
৩০ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরণের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেল পরিবহনের এই প্রধান রুটে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
জাহাজ ও নাবিকদের মানবেতর অবস্থান
বর্তমান পরিস্থিতিতে পারস্য উপসাগরে প্রায় ২০০০ জাহাজ এবং ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়ে আছেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি মিলছে না, ফলে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো রুটটি। এর আগে গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে দেয়। ফলে বীমা না থাকায় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জাহাজগুলো যাত্রা করতে পারছে না।
মাইন সরাতে দীর্ঘ সময়ের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইনগুলো পুরোপুরি সরাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাইন সরানো হলেও বীমা খরচ দীর্ঘ সময় চড়া থাকবে, যা জ্বালানি তেলের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশের বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা ও নাবিক ইস্যু
এদিকে ওমান উপসাগরে কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কার’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বেড়েছে। ২৮ জন ইরানি নাবিকের মধ্যে ৬ জন মুক্তি পেলেও বাকি ২২ জন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন। ইরান এই ঘটনাকে দস্যুতার শামিল বলে উল্লেখ করেছে এবং বাকি নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থায়ী রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির এই সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।






Total views : 7312