আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অগ্ৰণী সংবাদ প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দাবি করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক বিমান প্রযুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে ‘মেঘ চুরি’ করছে অথবা মেঘ ভেঙে দিচ্ছে। এই অদ্ভুত তত্ত্ব নিয়ে বর্তমানে সরগরম ইরান, ইরাক ও তুরস্কের নেটিজেনরা।
ইরাকি এমপির বিস্ফোরক দাবি সম্প্রতি ইরাকের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল-খাইকানি আল-রাশিদ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক ও ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের মেঘ চুরির অভিযোগ তুলেছে। আল-খাইকানির মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে বৃষ্টিপাত বেড়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে ‘ব্যস্ত’ সময় কাটাচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় মেঘ সরানোর বা ভেঙে দেওয়ার সময় পাচ্ছে না, যার ফলে ইরাকের আকাশে মেঘ জমতে পারছে।
বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা: মেঘ চুরি কি সম্ভব? ইরাকি এমপির এই দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও বিজ্ঞানীরা একে স্রেফ কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের কাছে এখনো এমন কোনো প্রযুক্তি নেই যার মাধ্যমে এক অঞ্চলের মেঘ অন্য অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া বা আস্ত মেঘ ‘চুরি’ করা সম্ভব। মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ একটি প্রাকৃতিকভাবে বায়ুমণ্ডলীয় বিষয়, যা মানুষের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা এখনো অসম্ভব।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিক্রিয়া ইরাকের আবহাওয়া অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমের আল-জাবিরি এই দাবিকে পুরোপুরি ‘অৈজ্ঞানিক ও অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালটি যে ইরাকে বৃষ্টিপূর্ণ হবে, সেই পূর্বাভাস ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর অনেক আগেই অর্থাৎ গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হয়েছিল। ফলে বৃষ্টির সাথে যুদ্ধ বা কথিত মেঘ চুরির কোনো সম্পর্ক নেই।
বিবিসি ভেরিফাই-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে এ ধরণের মুখরোচক ও ভিত্তিহীন গুজব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থিরতা ছড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে। মূলত প্রাকৃতিক নিয়মে বৃষ্টিপাত বাড়লেও একে রাজনৈতিক মোড়ক দিয়ে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।






Total views : 7312