রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আবদুর রহিম হারমাছি | ১৮ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) জ্বালানি তেল আমদানির ব্যয় নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের পণ্য আমদানির সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে দেশের মোট ব্যয় হয়েছে ৫৪ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ অর্থাৎ ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারই খরচ হয়েছে কেবল জ্বালানি তেল আমদানিতে। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একটি সম্পূর্ণ অর্থবছরেও জ্বালানি তেল আমদানিতে এত বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ মেয়াদে পণ্য আমদানিতে মোট ৫২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার খরচের বিপরীতে জ্বালানি তেলের পেছনে ব্যয় হয়েছিল ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল মোট আমদানির ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে জ্বালানি তেল আনতেই ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই আমদানি হয়েছে ৭৯ কোটি ১৮ লাখ ডলারের তেল। দেশের আমদানিকৃত জ্বালানির তালিকায় রয়েছে ডিজেল, অপরিশোধিত তেল, ফার্নেস তেল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও বেস অয়েল। মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম একপর্যায়ে ১২০ ডলারে উঠে যায় এবং বর্তমানে তা ১০০ ডলারের ওপরে ওঠানামা করছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়ের ওপর।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ম. তামিম জানান, মূলত আন্তর্জাতিক বাজার চড়া হওয়া এবং দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন বা জ্বালানি সংকট এড়াতে অন্তত দেড় মাসের আপৎকালীন মজুত রাখার পরামর্শ দেন। অন্যদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অর্থবছরের বাকি সময়েও দাম বেশি থাকার কারণে এবার জ্বালানি তেল আমদানি খাতে মোট ব্যয় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুও এক আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে, এই অতিরিক্ত ব্যয় দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। উল্লেখ্য, এই বিপুল আর্থিক চাপ সামাল দিতে সরকার গত ১৮ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়, যার ফলে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

Share.
Leave A Reply

সম্পাদক ও প্রকাশক

নিউজ পাঠানোর ঠিকানা: news@agranisangbad.net

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয় : নিউ মার্কেট (কাশেমিয়া মাদ্রাসা রোড), রাজশাহী, বাংলাদেশ - ৬১০০। মোবাইল:- ০১৭১৪-৪৬০৭৭৬।

ঢাকা কার্যালয় : বাসা নং- ১৬ (লিফটের ৩), রোড নং- ১২, ব্লক- এফ, নিকেতন, গুলশান।

ইউজার কাউন্ট

003811
Total views : 7312
© ২০২৬ অগ্রণী সংবাদ | কারিগরি সহযোগিতায় সাহারিয়ার কবির.