আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এবার এক চরম বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। যুদ্ধের ৩৫তম দিনে প্রথমবারের মতো ইরানের স্থলভাগে সরাসরি প্রবেশ করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর (স্পেশাল ফোর্স) তুখোড় কমান্ডোরা। মূলত ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করতেই এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান শুরু করেছে পেন্টাগন।
ঘটনার সূত্রপাত: গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বিমানে থাকা দুজন ক্রুর মধ্যে একজনকে মার্কিন হেলিকপ্টার টিম দ্রুত উদ্ধার করতে পারলেও দ্বিতীয় ক্রু অর্থাৎ ‘উইপেন সিস্টেমস অফিসার’ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ হন।
সীমান্তে রক্তক্ষয়ী লড়াই: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, নিখোঁজ সেনাকে খুঁজতে মার্কিন কমান্ডোরা ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে স্থানীয় সশস্ত্র মিলিশিয়া ও বর্ডার পুলিশের প্রবল বাধার মুখে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল গোলাগুলি। এক পর্যায়ে মার্কিন একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন লেগে যায় এবং সেটি ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে ইরাক সীমান্তে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়।
ইরানের বড় পুরস্কার ঘোষণা: এই ঘটনাকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধজয়ের হাতিয়ার হিসেবে দেখছে তেহরান। নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে জীবিত বা মৃত ধরে দিতে ৬০ হাজার ডলার নগদ পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। পুরস্কারের আশায় স্থানীয় জনগণ ও মিলিশিয়ারা এখন পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিটি ভাঁজে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত এক মাস ধরে চলা এই ভয়াবহ যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। খামেনির প্রয়াণের পর রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হলেও ইরান পিছু হটেনি, বরং প্রতিটি হামলার দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে। এই নতুন স্থল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত অন্ধগলির দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।






Total views : 7312