অনলাইন ডেস্ক | ২৭ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকায় গত দেড় দশকে বাসের সংখ্যা বাড়ার বদলে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ ও মোটরসাইকেল। সরকারের ভুল নীতি ও বড় প্রকল্পে অতি-মনোযোগের কারণে সাধারণ মানুষের বাহন ‘বাস’ এখন সড়কের সংখ্যালঘু যানবাহনে পরিণত হয়েছে।
পরিসংখ্যানের ভয়াবহ চিত্র: বিআরটিএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের মধ্যে ৫ শতাংশ ছিল বাস ও মিনিবাস। ২০২৫ সালে এসে সেই হার কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৮৩ শতাংশে। অথচ এই সময়ে ব্যক্তিগত গাড়ি ও এসইউভি (জিপ) বেড়েছে ১৫২ শতাংশ। বর্তমানে সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা দখল করে থাকে ব্যক্তিগত গাড়ি, যাতে চলাচল করেন মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ যাত্রী বহনকারী বাস ব্যবহার করে রাস্তার মাত্র ১৫ শতাংশ জায়গা।
উড়ালসড়ক বনাম বাস সংকট: বিগত সরকারগুলো যানজট নিরসনের নামে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার উড়ালসড়ক ও অন্যান্য প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বড় প্রকল্প কেবল ব্যক্তিগত গাড়িকে উৎসাহিত করেছে। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) বাসের রুট র্যাশনালাইজেশন ও বড় বাস নামানোর কথা থাকলেও তা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
কেন বাড়ছে না বাসের সংখ্যা? পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০১৯ সাল থেকে নতুন বাসের রুট পারমিট দেওয়ার প্রক্রিয়া কার্যত স্থবির ছিল। এছাড়া পুরোনো বাস মালিকদের আধিপত্য, ঋণের অভাব এবং নিচু মানের সিএনজি চালিত বাস অকেজো হয়ে যাওয়া বাস সংকটের অন্যতম কারণ। বর্তমানে নতুন অন্তর্বর্তী সরকার কিছু উদ্যোগ নিলেও তা এখনো দৃশ্যমান নয়।
বিশেষজ্ঞের অভিমত: রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, “সরকারগুলো গাড়ি কেনাকে উৎসাহিত করেছে কিন্তু বাসে যাতায়াতকে কঠিন করে তুলেছে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় প্রকল্পের চেয়ে বাস ব্যবস্থাপনায় নজর দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।”






Total views : 7312