নিউজ ডেস্ক | ১৭ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বড় সামরিক লক্ষ্য ও ভূ-রাজনৈতিক মিশন বাস্তবায়ন শেষে প্রায় এক বছর পর দেশে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এবং সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’। ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার বিশেষ অভিযান এবং পারস্য উপসাগরে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিয়ে শনিবার (১৬ মে) রণতরীটি ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দরে নোঙর করে। আজ রবিবার (১৭ মে) সিএনএন ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের এক প্রতিবেদনে এই ঐতিহাসিক ও রোমাঞ্চকর অভিযানের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আর কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ এত দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে সরাসরি যুদ্ধকালীন কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকেনি। সাধারণত এই ধরণের রণতরীগুলো সর্বোচ্চ সাত মাসের জন্য মোতায়েন করার উপযোগী করে তৈরি করা হলেও, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে ‘ফোর্ড’কে টানা ১১ মাস সমুদ্রের বুকে বুক চিতিয়ে লড়তে হয়েছে। নরফোক বন্দরে জাহাজটি ডকে এসে পৌঁছালে অপেক্ষারত হাজারো স্বজন এবং নৌসেনাদের পরিবার উল্লাসে ফেটে পড়েন। নাবিকদের স্বাগত জানাতে বন্দরে হাজির হন খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি এই মিশনকে ‘অনন্য ও অভূতপূর্ব’ বলে আখ্যা দেন। মার্কিন অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল জানান, ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধসহ বেশ কিছু নজিরবিহীন পরিস্থিতির কারণেই এই রণতরীর মিশন দীর্ঘায়িত করতে হয়েছিল।
তবে ১৩০০ কোটি ডলার (১.৩ বিলিয়ন) ব্যয়ে নির্মিত এই সুপার-ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রা মোটেও মসৃণ ছিল না। গত মার্চ মাসে রণতরীটির লন্ড্রি এলাকায় একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ক্রুদের টানা ৩০ ঘণ্টা লড়াই করতে হয়েছিল। এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত না হলেও প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের ঘুমানোর জায়গা (বাঙ্ক) হারান এবং বেশ কিছুদিন জাহাজে কাপড় ধোয়ার কাজ বন্ধ থাকায় ক্রুদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এর বাইরে, জাহাজটির অভ্যন্তরীণ টয়লেট বা শৌচাগার ব্যবস্থা বারবার বিকল হয়ে যাওয়ার মতো বিব্রতকর ও বিরক্তিকর পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়েছিল ক্রুদের। এই ত্রুটি মেরামতের জন্য মাঝসমুদ্রে জাহাজটিকে আংশিকভাবে শৌচাগার বন্ধ রেখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বন্দরে নোঙর করতে হয়েছিল।
সামরিক দিক থেকে এই রণতরীটি মার্কিন পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য প্রমাণিত হয়েছে। ভেনিজুয়েলা অভিযানের সময় নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মিশনে অংশ নেওয়া মার্কিন ফাইটার জেটগুলো এই রণতরীর ডেক থেকেই উড়েছিল। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধে এই জাহাজটিকে প্রধান সামরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে পারস্য উপসাগরে একের পর এক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষক ও মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ব্রেন্ট স্যাডলার বলেন, “জেরাল্ড ফোর্ডের বিশেষ ‘ইলেকট্রনিক ক্যাটাপল্ট’ ব্যবস্থা ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে ভারী যুদ্ধবিমান—সব ধরনের উড়োজাহাজ নিমেষেই উড্ডয়নের সুবিধা দেয়। আমেরিকার বাকি ১০টি বিমানবাহী রণতরীর এই অত্যাধুনিক সক্ষমতা নেই।” গত বছরের জুনে ভার্জিনিয়া ছাড়ার পর আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও নরওয়ে হয়ে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পারস্য উপসাগরে ত্রাস সৃষ্টি করে অবশেষে ঘরের ছেলে ঘরে ফিরল।






Total views : 7312